বিনোদন বিশ্ব

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলার পুরুলিয়ার মেয়ের জয়

পুরুলিয়া জেলার নিতুড়িয়া ব্লকের নারায়ণপুর গ্রামের মেয়ে অনুপর্ণা রায় ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অরিজ্জোন্তি বিভাগে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান পেলেন। তাঁর ছবি ‘Songs of Forgotten Trees’.

এই তরুণীর নারায়নপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের পরিমিত জীবনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মেয়ে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়েটি পড়াশোনা করে স্থায়ী একটি চাকরি করুক। অনুপর্ণাও প্রথমে সেই পথেই হাঁটেন। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং কিছুদিন কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজও করেন। কিন্তু মনের ভেতরের শিল্পী তাকে অন্য পথের সন্ধান দিচ্ছিল। তাই তিনি সাহস করে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন অনুপম খেরের ইনস্টিটিউটে। ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগত থেকেই সিনেমা বানানোর স্বপ্ন তাঁর মধ্যে জন্ম নিতে থাকে।

এই স্বপ্নের ফলশ্রুতি স্বরূপ তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা Songs of Forgotten Trees। যার বাংলা মানে কিছুটা এমন হয় ভুলে যাওয়া গাছের গান।

ফিল্মটি মুম্বইয়ের দুই মহিলার গল্প বলে, যাদের জীবন একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায়। একজন মহিলা একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রী, যিনি বেঁচে থাকার জন্য যৌনকর্মে লিপ্ত হন, এবং অপরজন একজন কর্পোরেট পেশাদার, যিনি একই অ্যাপার্টমেন্টে চলে আসেন। তাদের ভিন্ন পটভূমি সত্ত্বেও তারা একটি ভঙ্গুর বন্ধন গড়ে তোলেন, শহরে বেঁচে থাকা এবং সংযোগের থিমগুলির মধ্য দিয়ে যাত্রা করেন।

তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা, চারপাশের সমাজের গল্প আর গ্রামীণ বাংলার বাস্তবতাকে মিশিয়েছেন। সরল অথচ কাব্যিক ভঙ্গিতে বলা এই গল্প দর্শক ও সমালোচক উভয়ের মন জয় করে নেয়।

 

২০২৫ সালে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি নির্বাচিত হয় অরিজ্জোন্তি বিভাগে এবং অনুপর্ণা জয় করেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান। এই পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই মর্যাদায় ভূষিত হলেন। সাদা শাড়ি পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বললেন—“এই সম্মান আমি উৎসর্গ করছি প্রতিটি নারীর প্রতি, যাদের কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে গেছে”—তখন সেই মুহূর্ত ইতিহাস হয়ে রইল।

যে বাবা একসময় মেয়ের সিনেমার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, সেই বাবা আজ মেয়েকে দেখে গর্বে ভরে ওঠেন।

Loading

Leave a Reply