সাহিত্য

পুজোর লেখা।দুটি কবিতা

তপন গোস্বামী

পুজো শেষ। কিন্তু পুজোর লেখা তো থেমে থাকে না! আমরা চেয়েছিলাম, ‘আজ বাংলা’র পুজোর লেখা হোক আর পাঁচটা পোর্টালের চেয়ে আলাদা। সেই লক্ষেই আমাদের যাত্রা শুরু। আমাদের প্রথম নিবেদন এই সময়ের অন্যতম শক্তিশালী কবি তপন গোস্বামীর কবিতা। তাঁর দু’টি কবিতা দিয়েই যাত্রা শুরু হল।

১)চিঠি

আমি অপেক্ষা করি
আমার বাবার নামে কখন চিঠি আসবে;
নদী পার হয়ে জল কাদা ভেঙে
ভেসে যাওয়া ফুল আর আজানের শব্দ ছুঁয়ে
সাপের কুহুক চিরে ভোরের কুয়াশার ভেতর দিয়ে
একটা চিঠি আসবে,
নিরক্ষর বাবার মুখ ভরে উঠবে
এক থালা ভাতের মতো সাদা সাদা পবিত্র হাসিতে।

বাঘের মুখ থেকে ফিরে এসেছিল বাবা
চিঠি আসেনি,
জলে ঝাপ দিয়ে তুলে এনেছিল বুধিয়াকে
চিঠি আসেনি,
কান্তি গাঙ্গুলির জায়গায় সিনেমার রঙচঙে নায়িকা জিতেছিল চিঠি আসেনি।
বাবার সাধ
জন্মশোধ দরজায় একবার পিওন আসবে,
ডাঙা থেকে নাচতে নাচতে একটা চিঠি উঠে আসবে তারও হাতে,
অশোক স্তম্ভের গায়ে
একবার হাত দিয়ে সুড়সুড়ি দেবে,
দেখবে সুমহান ভারতের প্রতীক
খিলখিল করে হেসে ওঠে কিনা।।

২)পুরুলিয়া

কখনও কখনও তাঁতে উঠে আসে অযোধ্যা পাহাড়
পুরুলিয়া, শুখাভাত, হাতে সুতো ভুলে যাওয়া সুর
পোড়ামাটি চালচিত্রে ফুটে ওঠে রাঢ়ের দুপুর
বাবলা কাঁটায় ঘেরা লালমাটি গাছেদের হাড়।

মেঘ যদি জমে ওঠে, ঝড় ওঠে মাদলের টানে
লাল রঙে যদি ভেজে কারো কারো শাড়ির আঁচল
কেউ যদি গান গায়, খুলে যায় ঝর্নার তাল
টুসু পরবের দিনে এ মাটিও সহবৎ জানে।

সমস্ত শরীরে খড়ি,বাতাসেও চামড়া উঠে আসে
নদী তো ভেতরে নেই, চাঁদ নেই উপোসী গুহায়
নুড়ি পাথরের মতো ভাঙাচোরা শরীরের খাঁজে
খিদের আগুন জ্বলে,ভাদ্রে নয়, গেরস্থ মাসেই।

ভূতগ্রস্থ লোক তুমি, গঙ্গা থেকে বহুদূরে ঘর
বাতিল কাগজ ভাসে কুমারীর বালিশের পাশে
বাঘমুন্ডি পাহাড়েও মাঝে মাঝে নেমে আসে জ্বর
বাঁকুড়া মেয়ের বাড়ি দেখা যায় গ্রীষ্মের আকাশে।

 11,127 total views,  7 views today

Leave a Reply