রাজ্য

তৃণমূল সাংসদ নুসরতের টুইটে হতবাক রাজ্যের মানুষ। ধিক্কার সর্বত্র।

লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের দিন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ছিল সকলেই উপস্থিত থাকার।তার পরেও শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী, চৌধুরী মোহন জাটুয়া দেব,মিমি সহ অনেকেই উপস্থিত হননি ঐদিন। সব থেকে অবাক করার মত বিষয় দেব ও মিমির অনুপস্থিতির কারণ বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের আরেক নায়িকা সংসদ নুসরাত জাহান। তিনি জানিয়েছেন শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সংসদে উপস্থিত হতে পারেননি তার বন্ধুরা।

সেখানে 300 লোকের রুটি-রুজি জড়িয়ে আছে। নুসরত এর মন্তব্যের পরেই রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে দেশের স্বার্থ রক্ষার থেকে 300 মানুষের স্বার্থরক্ষার যাদের গুরুত্বপূর্ণ, তাদের উচিত ছিল নিজেদের সেই জায়গাতেই সীমাবদ্ধ রেখে কাজ করা। নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় এই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কি মনে ছিল না তারা তাদের সমস্ত সাংসদ এলাকার মানুষের গলার স্বর। বিশ্বাস। কেবলমাত্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষার কারণে এত মানুষের বিশ্বাস নিয়ে কিভাবে ছেলে খেলা করতে পারেন তৃণমূল সাংসদরা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন তিনি এনআরসি বিরোধিতা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত করবেন অথচ তারই দলের সাংসদরা শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বিরোধিতা করতে গেলেন না।

অনেকেই বলছেন নির্বাচনের সময় যখন সেলিব্রিটি নায়ক নায়িকাদের আগামী দিনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল তখন অনেকেই এনাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু আজ প্রমাণিত ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনারা নিজেদের শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষা এনাদের কর্তব্যবোধের মধ্যে পড়ে না। অনেকেই বলছেন আসলে এরা নিজেদের স্টারডামকে কাজে লাগিয়ে কেবলমাত্র ভোট বৈতরণী পার হন।সংসদ এদের কাছে ছেলেখেলা। বেলুন হাতে শিশুকে কোলে তুলে ছবি তুলে প্রচার পাওয়া এক জিনিস আর সংসদে নিজের এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা আর এক জিনিস। সেই বোধ এদের নেই। যত তাড়াতাড়ি এই বোধের জন্ম হয় ততই রাজ্যের মঙ্গল।

9,776 total views, 12 views today

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: