জেলা

অমিল মাস্ক ও স্যানিটাইজার, ক্ষুব্ধ আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।

করোনা আতঙ্কে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, স্যানিটাইজার মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসক এবং নার্সদের একটি বড় অংশ। আর মাস্ক স্যানিটাইজার অপর্যাপ্ত যোগানে যথেষ্টই ক্ষুব্দ চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের একাংশের অভিযোগ তারা বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কোন মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে। বারবার তারা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাই নিজেদের স্বার্থে তারা নিজেদের টাকা খরচ করেই এই সমস্ত অতি-প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন। একটি মাছ তারা তিন থেকে চার দিন ধরে ব্যবহার করছেন বাধ্য হয়েই একপ্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা চিকিৎসা করছেন। এরফলে কোনও বিপদ ঘটে যেতে পারে। তাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হচ্ছে না মাস্কো স্যানিটাইজার নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে কেনার মত। নার্সদের আরও অভিযোগ তারা সর্বদাই বলছেন সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখার জন্য। কিন্তু তারা যখন হাসপাতালে এসে সই করছেন তারা কিন্তু সোশ্যাল ডিস্টেন্স মানতে পারছেন না। এক চিকিৎসক বলেন মাস্ক ও স্যানিটাইজারের পাশাপাশি মাথার ক্যাপ ও হাতের গ্লাভসেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে যোগান নেই। তাই ঝুঁকি নিয়েই তাদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হচ্ছে। এদিন দেখা গেল ওই চিকিৎসক হাতে গ্লাভস না নিয়েই চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি গ্লাভস ব্যবহার করছেন না কেন? তিনি এর উত্তরে জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্লাভস নেই, তাই বিনা গ্লাভসেই তাকে চিকিৎসা করতে হচ্ছে। এবার বারে বারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে মহকুমা হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার তথা এসিএমএইচ সিদ্ধার্থ দত্ত ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন কারোও যদি কোন সমস্যা থাকে সংবাদমাধ্যমকে না জানিয়ে তারা আমাকে জানাক।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোমবার নবান্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সমস্ত হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার কথা জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর রাখার কথা বলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকের ২৪ ঘন্টা পের হতে না পের হতেই আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে নার্স-চিকিৎসকদের এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে এল। এখন দেখার হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের এই অবস্থার পরিবর্তন করতে কতটা উদ্যোগী হয় প্রশাসন।

 86 total views,  6 views today

Leave a Reply