‘আগার কিসি চিজ কো দিলসে চাহো, তো পুরি কাইনাত উসে তুমসে মিলানে কি কোসিশ মে লাগ জাতি হে’, দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমে সর্বক্ষণ ওম শান্তি ওম সিনেমার সেই বিখ্যাত ডায়লগের কথা চিন্তা করতেন জিয়াগঞ্জের সধুগঞ্জের ব্যবসায়ী ঋষব দাস। অবশেষে এলো সেই শুভক্ষণ। শুভদৃষ্টির সময় চোখের সামনে থেকে পান পাতা সত্যেই নববধূকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বর। বিয়ে বাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ নিমেষে যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রথমে অনেকেই বরের চোখে জল আসার কারণটি ঠাওর করতে সাত-পাঁচ ভাবতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য ঘোর কাটে সকলেরই, ততক্ষণে কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যেটা ভালোবাসার পূর্ণতা পাওয়ার আনন্দাশ্রু। আবেগ সরিয়ে কিছুক্ষণ পর বর-কনে নিজেদের সামলে বিয়ের পরবর্তী পর্যায়ে চলে যান বটে, কিন্তু ততক্ষণে মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি হয়ে গিয়েছে শুভক্ষণের সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি। আর প্রযুক্তির যুগে তার সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল হতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি। নেট দুনিয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে রাতারাতি হিরো হয়ে উঠেছেন জিয়াগঞ্জের ঋষব।
ভাইরাল হওয়া ছবির কমেন্ট বক্সে কেউ লিখছেন সব ভালোবাসা এরকমভাবে পূর্ণতা পাক। কেউ আবার লিখছেন, ভালোবাসলে এভাবেই হাজার প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত সকলেরই যাওয়া উচিত। অনেকেই আবেগঘন মুহূর্তের এই ছবি দেখে চোখের জল ফেলেছেন। ঋষবের সঙ্গে এলাকারই মেয়ে রিঙ্কি সিংহ রায়ের আট বছরের সম্পর্ক। বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঋষবের ওষুধের দোকান রয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, আমার মনে মনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার বিশেষ মুহূর্তগুলির কথা সবসময় আসত। সেই দিনটা সত্যি যে আমাদের জীবনে আসতে পারে, তা ভাবতে পারিনি। বিশেষ এই দিনে পৌঁছনোর জন্য অনেক প্রতিকূল পথ পেরিয়ে আসতে হয়েছে। সেই কারণে শুভদৃষ্টির সময় আবেগে কেঁদে ফেলেছিলাম। আমাদের দুজনেরই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার ওকে নিয়ে সুখে ঘর করতে চাই। এদিকে প্রাণের মানুষকে পেয়ে খুশি রিঙ্কিও। তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের দুজনের কাছেই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওকে শুভদৃষ্টির সময় দেখে খুব আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু যখন ও কাঁদতে শুরু করে তখন আমিও নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। চোখে জল এসে যায়। আমরাও চাই সব প্রেম এভাবেই বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত যেন এগয়। ভিডিওতে সবাই বিভিন্ন রকমের কমেন্ট করছে। তা দেখে খুবই ভালো লাগছে।
১৭ই জানুয়ারি জিয়াগঞ্জের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে বিয়ের আসর বসেছিল। তবে শুভদৃষ্টির সময় কয়েকজনের হাতে মোবাইল ছিল। বন্ধুরা তাদের কাছে দাঁড়িয়ে মজা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পাত্রকে কাঁদতে দেখে তারা কিছুটা থতমত খেয়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দৃশ্য আপলোড হতে অবশ্য দেরি হয়নি। নেটিজেনরা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন সেই দৃশ্য। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড গান দিয়ে তারা সেই দৃশ্য আরো রোমান্টিক করে তুলেছেন। রাতারাতি নেটিজেনদের কাছে হিট ঋষব-রিঙ্কি জুটি।
![]()

