October 30, 2020

এবারও নৌকায় এাণবোঝাই করে রওনা দিলেন বুড়ো, আমফানেও বাদাবনের ভরসা ক্লান্তিহীন কান্তি

বব দত্তঃ “ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু” ধুতি পাঞ্জাবি পরা এক বৃদ্ধের জন্য এ কথাটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা বাদা অঞ্চলে প্রতিটি দুর্যোগেই প্রমাণিত হয়। এই লোকটি একসময় রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। দাপুটে নেতা ছিলেন। এখন কিন্তু তিনি কেউ নন। শেষ দুটি বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছেন। অবাক করার মত বিষয় যেই এলাকা থেকে তিনি পরাজিত হয়েছেন সেই এলাকায় শেষ আট বছরে যতগুলি বিপর্যয় ঘটেছে সবগুলি বিপর্যয়েই তিনি বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। এই মানুষটির সাথে বাদা অঞ্চলের আত্মিক যোগাযোগ। ভোট এলো কি গেল তাতে বোধ হয় এই মানুষটির কিছুই যায় আসে না। আইলা, ফনি বা বুলবুল যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখনই বিপদে পড়েছে সুন্দরবনের মানুষ এই বৃদ্ধ মানুষটি ক্লান্তিহীনভাবে তাদের পাশে থেকেছে। ঝড়ের রাতে মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত তখন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে অন্ধকারে এই মানুষটি বাদা অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান। অবলীলায় কারো বাড়িতে যেতে পারেন। ডাক্তার নন, কিন্তু মানুষের ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা আটকে গেলে খানিকটা চিকিৎসা করে দেন।

ছবি সংগৃহীত

লোকটির নাম কান্তি গাঙ্গুলি। ইনি পরপর দুটি নির্বাচনে হেরেছেন। তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী দেবশ্রী রায়ের কাছে। এলাকায় মাঝেমধ্যে পোস্টার পড়ে বিধায়ক কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে। সেই অর্থে কোন ভয়ঙ্কর দুর্যোগের সময় বিধায়ককে দেখাও যায় না। তার পরেও ইনি যেতেন। এই মানুষটি বারবার হেরে যান। তবুও বারবার মানুষের পাশে থাকায় যে একজন জননেতার কাজ তা তিনি প্রমাণ করেন। হঠাৎ করে আজ এই বৃদ্ধকে নিয়ে এত কথা বলছি কেন? বলছি তার কারণ ভয়ঙ্কর গতিতে ধেয়ে আসছে আমফান। যা আইলার চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। আর সবথেকে ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই বাদা অঞ্চলের মানুষ। কাজেই চোখের সামনে এই ভয়ঙ্কর বিপদে এই বৃদ্ধ মানুষটি ঘরে বসে থাকবেন তা আবার হয় নাকি। তাই আজই নৌকো নিয়ে চললেন তার গন্তব্যে। বৃদ্ধের সঙ্গে কি কি গেল? এখনো পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে করে 2000 ত্রিপল, 100 কুইন্টাল চাল, কয়েক কুইন্টাল ডাল, কয়েক পেটি জরুরী প্রয়োজনীয় ওষুধ, কিছু সবজি আর কিছু মসলাপাতি। জানা নেই এলাকার বিধায়ক এখন ঠিক কোথায় আছেন। কিন্তু এই বুড়ো মানুষটি লড়াই এর সামগ্রী সংগ্রহ করে পাড়ি দিয়েছেন বাদাবনে। এখানকার মানুষদের বনবিবি রক্ষা করতে পারবেন কিনা তা হয়তো অনেকেই জানে না। কিন্তু এখানকার মানুষ জানে ধুতি পাঞ্জাবি পরা গোলগাল বুড়ো ঠিক এসে হাজির হবে। ভোটে হারলে কি হবে বাদাবনের গরীব মানুষের কাছে তিনি এক অন্যরকম দেবতা।

 426 total views,  12 views today