দেশ

সকালের আলো ফোটার আগেই নির্ভয়াকাণ্ডের ৪ ধর্ষকের ফাঁসি হল

বিভিন্ন রকমের জল্পনা-কল্পনা বহু নাটকীয়তা কাটিয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিহার জেলে একসাথে চার ধর্ষকের ফাঁসি হলো। স্বাধীন ভারতবর্ষে এই ঘটনা এই প্রথম। এক সাথে চার ধর্ষকের ফাঁসি হলো। তবে শেষ মুহূর্তে অপরাধীরা বাঁচার জন্য শেষ চেষ্টা করেছিল। গতকাল রাতেই ফাঁসির কয়েক ঘণ্টা আগে অক্ষয় কুমার সিং, বিনয় শর্মা এবং পবন গুপ্ত দিল্লি হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ক্ষমা করার জন্য আর্জি জানান। আর গভীর রাতেই শুনানি করে তাদের এই আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়। তারপরে পবন গুপ্ত ঘটনার সময় নাবালক থাকার কারণে ক্ষমা প্রাথমা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

সেখানে জানানো হয় নাবালক হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ আরজি কেন খারিজ করে দিলেন। ইয়াকুবের মেমন এর ঘটনার মতোই রাত আড়াইটার সময় এই মামলার শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্টে পবনের আইনজীবী জানতে চান তার মক্কেল স্কুলে পড়ার সমস্ত নথি দেওয়া হয় কোর্টে। কিন্তু সরকার পক্ষের আইনজীবী সমস্ত নথি লুকিয়ে ফেলেন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি তার কোন কথা শুনতে চাননি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন সমস্ত বিষয়ে তদন্ত করে সব সওয়াল আগেই হয়ে গেছে। কেবলমাত্র স্কুলের শংসাপত্রের উপর ভিত্তি করে কোন বয়স সীমা ঠিক করা যায় না। ফাঁসির কয়েক ঘণ্টা আগেই সমস্ত জটিলতা মিটে যায়। অবশেষে শেষমেষ তিহার তিন নম্বর জেলে ৪ অপরাধীর ফাঁসি হয় ভোর ৫টা ৩০ মিঃ নাগাদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ফাঁসির মহরা হয়ে যায়। ধর্ষকদের সম ওজনের বস্তা ঝুলিয়ে দড়ির ধারণক্ষমতা বুঝে নেওয়া হয়। বিহার থেকে চারটি দড়ি আনা হয়েছিল অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য। তাদের শরীর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এরপর ময়নাতদন্ত থেকে ফিরে এসে তাদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ২০১২ সালে নির্ভয়ার ঘটনার যোগ্য জবাব মিলল।

সাড়ে সাত বছর পর নির্ভয়ার মা জানান ধর্ষকেরা যোগ্য সাজা পেয়েছে। মেয়েদের ধর্ষণ করার আগে এরূপ সাজার কথা প্রতিটি ধর্ষক একবার অন্তত ভাববে। মায়ের সাথে সমগ্র ভারতবর্ষে মেয়েরাই নির্ভয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। সূর্যের আলো ফোটার আগেই পবন, অক্ষয়, বিনয়, মুকেশ ফাঁসি কাঠে ঝুলল। ১৯৮২ সালে তিহার জেলে অপরাধী রানা- বিল্ডার্স দের ফাঁসি হয়েছিল। এরপর ১৯৯৮ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকারী সতবন্ত সিং ও কেহর সিং এর ফাঁসি হয়। এরপর এই প্রথম একসাথে চারজনের ফাঁসি হল তিহার জেলে। অবশেষে ধর্ষণের অপরাধীরা যোগ্য সাজা পেল।

Loading

Leave a Reply